বাড়ির দরজায় বা দোকানে লঙ্কা লেবুর মালা কেনো ঝুলিয়ে রাখা হয়। জানুন…

আপনার বাড়িতে বা দোকানে হোক, বা কোনও অফিসে- লেবু আর লঙ্কার মালা ঝুলতে দেখতে তো আপনি দেখেছেন এবং হয়তো আপনিও লঙ্কা ও লেবুর মালা আপনার বাড়িতে ঝুলিয়ে রেখেছেন কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন কেন এত যুগ ধরে ভারতে লেবু লঙ্কার এমন অদ্ভুত ব্যবহার হয়ে আসছে? সাধারণত যে কথাটি প্রচলিত তা হল, ‘কু-নজর’ দূরে রাখতেই ঘরের বাইরে বা দোকানের বাইরে এই অদ্ভুত সবজি মালা টাঙিয়ে রাখা হয়। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তেই বিভিন্ন স্তরের মানুষই কিন্তু এই ‘কুনজর’ বা ‘কালা-জাদু’তে বিশ্বাস করে থাকেন। ভালো করে লক্ষ করলে দেখবেন, নিয়ম মেনে ঠিক সাতটি লঙ্কা আর একটি লেবুই ঝোলান হয় দরজায়। কী এর ব্যাখ্যা তা খুঁজতে গিয়ে বিভিন্নরকম গল্প সামনে আসে। কিছু তাঁর ভারতীয় পৌরাণিক কিছু আবার বৈজ্ঞানিক। দেখে নেওয়া যাক এই আচরণের পিছনে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কী কী বিশ্বাস রয়েছে।

3. পোকামাকড় দূরে রাখার প্রাকৃতিক পদ্ধতি

আগেকার দিনে পাকা বাড়িও ছিল কম। সেই সময় বাড়িতে উটকো পোকামাকড় তাড়াতে লেবু লঙ্কা ব্যবহার করা হত। লেবু আর লঙ্কার শক্তিশালী গন্ধ এবং স্বাদ কীট নাশক হিসেবে কাজ করত।
এই ব্যাখ্যার পরেও বলতে হয় যে আসলে কারণ ঠিক কী, তা সত্যিই অজানা। কেনই বা ভারতীয়দের কাছে এভাবে লেবু লঙ্কার ব্যবহার চলে আসছে যুগ যুগ ধরে তার কারণ বহু গবেষণা সাপেক্ষ।

2. প্রাচীন বিশ্বের একটি সামাজিক ব্যাখ্যা

প্রাচীনকালে রাস্তাঘাট তো পাকা ছিল না। মানুষজন যাতায়াত করত জঙ্গলের মধ্য দিয়ে কাঁচা মাটির রাস্তা ধরেই। এবং এত যানবাহন ছিল না বলে পায়ে হেঁটেই মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য অনেক দূরের জায়গাতে যেত। দীর্ঘ দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করার সময় তাঁরা সঙ্গে লেবু আর লঙ্কা নিয়ে বেরোতেন। পথের মাঝে ক্লান্ত লাগলে তাঁরা জলের মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে নিতেন।

যাতে তাঁরা বাকি পথটুকু চলার এনার্জি পান। লঙ্কা রাখতেন সাপের ভয়ে। সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যু আগে খুবই সাধারণ ঘটনা ছিল, তাই রাস্তায় কোনও সাপ কামড়ালে তা বিষাক্ত ছিল না ছিল না তা বুঝতে লঙ্কা ব্যবহার করতেন যাত্রীরা। যদি সাপের কামড়ের পরও লঙ্কা খেয়ে ঝাল লাগত তাহলে বুঝতেন ওই সাপ বিষাক্ত ছিল না। আর যদি ঝাল লঙ্কা খেয়েও কোনও কিছুই অনুভব হত না তাহলে বুঝতেন বিষাক্ত কোনও সাপ কামড়েছে। সেই থেকেও লেবু-লঙ্কাকে সৌভাগ্য আর দূর্ভাগ্যের সাথে তুলনা করার রেওয়াজ চলে আসছে।

1.দেবী লক্ষ্মী এবং অলক্ষ্মীর পৌরাণিক গল্পঃ

ভারতীয় পুরাণ অনুসারে বিশ্বাস করা হয় যে, সমৃদ্ধির দেবী হচ্ছেন লক্ষ্মী। এই লক্ষ্মীরই আরেকটি বোন ছিল যার নাম অলক্ষ্মী। অলক্ষ্মী হল মানুষের যাবতীয় দুর্ভাগ্য ও দারিদ্র্যের কারণ। অলক্ষ্মীকে প্যাঁচার সাথে তুলনা করা হয়। প্যাঁচা আবার লক্ষ্মীর তিনটি বাহন বা ধারকের (হাতি ও পদ্মফুল) অন্যতম।

তাই দেবী লক্ষ্মীকে স্বাগত জানানোর জন্য মিষ্টি ও ফল প্রসাদ দেওয়া হয় যাতে মা লক্ষ্মী পরিবারকে সম্পদ ও সমৃদ্ধি দিয়ে আশীর্বাদ করেন। অন্যদিকে, অলক্ষ্মী নাকি টক, ঝাল এসব স্বাদ দিয়ে দূরে সরিয়ে রাখা যায়, তাই অলক্ষ্মীর অভিশাপ এড়াতে ঘরের বা দোকানের বাইরে ওই লেবু লঙ্কা ঝোলানোর প্রথা চলে আসছে ভারতীয় পৌরাণিক কারণ অনুযায়ী।

Sanjib: