‘এনআরসি’ আর ‘সিএবি’ নিয়ে বাংলায় অচলাবস্থা! কি এই NRC & CAB? বিস্তারিত জানুন

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, NRC, CAB এর সম্পূর্ণ অর্থ কি… NRC হলো National Register of Citizens বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) আর CAB হলো Citizenship Amendment Bill বা নাগরিক সংশোধনী বিল (সিএবি)।

বিষয়টি কিন্তু একদম সাদামাটা, আমাদের ভারতের নাগরিকত্ব! কিন্তু, ব্যাপারটা এখন দেখতে হচ্ছে দু’টি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে। এক, কি কি কারণে আপনি ভারতের নাগরিক, তার প্রমাণ আপনাকে দিতে হবে। তার জন্য আপনার কাছে যা যা ডকুমেন্টস বা নথিপত্র আছে তা দিয়ে আপনি পপ্রমান করতেই পারেন, যে আপনি ভারতীয়। আর কাগজ-নথিপত্র হারিয়ে ফেললেই আপনি বাদ পড়তেও পারেন ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জী থেকে। এই জায়গাটা হলো NRC এর।

আর একদিক হলো, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ না হলেও আপনি কি কি ভাবে ভারতের নাগরিকত্ব পেতে পারেন, তার নিয়ম ও বিধি।

অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে আপনি যে ভারতের নাগরিক নন, সেটা প্রথম প্রতিপাদ্য।

আরও পড়ুন: HOT VIDEO! ফের আগুন জ্বেলে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল দিশা পাটানি! ভিডিওতে দেখুন

কারণ, এই জন্যই আপনি ভারতের নাগরিকত্ব চাইছেন। এই ব্যাপারটাকেই বলা হচ্ছে ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল” বা ‘সিএবি’।

তবে, যে বিষয়টি এখানেই একটু গোলমেলে তা হলো, এ দেশের ১৩০ কোটি মানুষের মধ্যে শুধুমাত্র কিছু সংখ্যকের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

মানে, কিছু অল্প সংখ্যক অ-নাগরিক বা ধরুন আধা-নাগরিকের সমস্যাটা এখন চেপে বসছে সারা দেশের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের উপর।

ব্যাপারটা বুঝতে একটুও অসুবিধে হচ্ছে না যে, যেখানে ভারতের সীমানা রয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশের সঙ্গে, সেখানে তো এ ধরণের সমস্যা ভীষণ আকার নেবেই!

অসম ভুগছে, এখন শুরু এই বাংলাতেও!

এই নতুন বিল পাশ হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা ভীষণভাবে শুরু করেছে বাংলায়।

সম্পর্কিত পোস্ট
আরও পড়ুন: “গণধর্ষণ-খুন” কান্ডের অভিযুক্তেরা জেলে বসে খাচ্ছে খাঁসির মাংস আর ফ্রায়েড-রাইস!

আরও সহজ করে বললে, নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল 2019, হ’ল পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সী এবং খ্রিস্টান) ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে এই নতুন বিল।

যাঁরা পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে যারা ২০১৪ সালের ৩১ ই ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন তাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।

গত বুধবার রাজ্যসভাতে নাগরিকত্ব বিল পাশ হওয়ার পরই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দিয়েছিল বিরোধীরা।

এ দিকে, বৃহস্পতিবার সকালেই সুপ্রিম কোর্টে রিট-পিটিশন দাখিল করেছে ‘ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ’। বিলটি ‘অবৈধ’ বলে তারা দাবি করছেন।

আরও পড়ুন: মিড ডে মিলের রাঁধুনি থেকে একরাতেই হয়ে গেলেন কোটিপতি!

সবশেষে, যে আলোচনাটা বারবার উঠে আসছে তা হলো, সংবিধানের ১৪ ও ১৫ নম্বর ধারা।

সাধারণত, আমরা সাধারণ মানুষরা ‘আইন বা সংবিধান’ এর “ঝামেলা-টামেলা” বুঝে বেকার সময় নষ্ট করতে চাই না।

সবার ঘর-সংসার রয়েছে। দৈনিন্দনের কাজ রয়েছে।

তবু জানিয়ে রাখি, প্রথমটিতে বলা হচ্ছে যে- আইনের বিচারে প্রতিটি মানুষের সমান সুরক্ষার বিষয়টি কোনো রাষ্ট্রই অস্বীকার করতে পারে না।

পরেরটি হচ্ছে- ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ, জন্মস্থান, এ সব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কোনো ধরণের বৈষম্য আমাদের দেশে চলবে না।

আরও পড়ুন: ‘নিজের’ সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখাটাই আসল, তাই নিজেকে যত্নে রাখতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি:

প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে। ধন্যবাদ।।

Viral Desk:
সম্পর্কিত পোস্ট
Leave a Comment
সাম্প্রতিক পোস্ট