মহামারী। বিশ্বজুড়ে সংকট। প্রায় গোটা বিশ্বই আজ গৃহবন্ধি। ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে প্রায় 3 লক্ষ 71 হাজারের বেশির মানুষের প্রাণ হরণ করেছে এই করোনা ভাইরাস। গোটা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত প্রায় 62 লক্ষের বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এই রকম সংকটজনক পরিস্থিতিতে এখন গোটা বিশ্ব এক সঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। এই আতঙ্ক কবে যাবে, তা এখনও ঠিক করে বলতে পারছে না কোনো বিজ্ঞানীও।

মহামারী
2020 এর করোনা মহামারীর ছবি

এর আগেও বিশ্ব দেখেছে বহু মহামারী। গোটা বিশ্বেই বিভিন্ন সময় এই মহামারী শব্দটি ত্রাসের সৃষ্টি করেছে।

মানব সভ্যতা যতই উন্নত হয়েছে, মহামারী তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে উঠেছে।

বিশ্বে এর আগে যখনই মহামারী এসেছে, তখনই সমস্ত জায়গায় শ্মশান করে দিয়ে চলে গেছে। শুধু একটাই শব্দ- মৃত্যু!

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা 67 কোটি ছাড়াবে: রিপোর্ট

আমাদের দেশও এ রকম অনেক মহামারীর সাক্ষী রয়েছে। সাক্ষী রয়েছে করেলা, কালাজ্বরের মতো মারণ রোগেরও।

মহামারী
সে সময়কার কলকাতা, প্লেগ মহামারী’তে বিধ্বস্ত কলকাতা

আজকের মতো ঠিক এই রকম ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা ইতিহাসের দিনলিপিতেও সংগ্রহিত আছে। যা ছিল গোটা ভারত হয় কলকাতা কালো সময়।

আরও পড়ুন: 24 বছর আগে আবর্জনায় কুড়িয়ে পাওয়া এই মেয়েটিরই কান্না শুনে ঘরে নিয়ে এসেছিল মিঠুন চক্রবর্তী!

1896 সাল নাগাদ বোম্বাই তথা মুম্বাইকে পুরো বিধস্ত করে সমগ্র উত্তর ভারতকে গ্রাস করে ফেলেছে প্লেগ। তবে, কলকাতায় প্লেগের তান্ডব শুরু হয় তার প্রায় দু’বছর পরে।

সত্যিই ওই সময়টা ছিল কলকাতার কালো সময়। চারিদিকে শুধু মৃত্যু আর মৃত্যু। সে ছিল মহামারীর এক মৃত্যু বিভীষিকা রূপ।

মহামারী
স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর অনুগামীগণ

কলকাতায় যে বছর প্লেগ মহামারীর আকার ধারণ করলো, ঠিক সে সময়ই (20 ফেব্রুয়ারি) স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্ব জয় করে কলকাতায় ফিরলেন।

সে সময় কলকাতায় হাজারো লোক সমবেত হয়েছে ঘরের চলে নরেন’কে ফিরিয়ে আনতে।

আরও পড়ুন: পরীক্ষার চাপ কমাতে খান এই ৫টি খাবার, চাপ প্রতিরোধে সাহায্য করবে ও মানসিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করবে:

কলকাতা শহরের বৃহত্তম নাগরিক সংবর্ধনাসভায় স্বামীজী বলেছিলেন, “উত্তিষ্ঠত জাগ্রত… কলকাতার যুবকগণ ওঠো, জাগো, কারণ শুভ মুহূর্ত এসে গেছে।”

সে সময়ই কলকাতা সহ গোটা ভারতের মঞ্চে উঠে এলেন এক বিদেশিনী, মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল। তিনি এই বাংলার মাটি স্পর্শ করলেন ভারত সেবার মন্ত্র নিয়েই।

পরবর্তীকালে তিনি ব্রহ্মচর্য গ্রহণ করলে স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর নামকরণ করেন “নিবেদিতা”।

মহামারী
সে সময়কার কলকাতা, প্লেগ মহামারী’তে বিধ্বস্ত কলকাতা

মহামারী প্লেগ এর সময় স্বামী বিবেকানন্দ ও ভগিনী নিবেদিতার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

সে সময় এই বিদেশিনী তথা মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেলকে কলকাতার রাস্তায় ঝাঁটা হাতে কলকাতার পথ পরিষ্কার করতেও গেছে।

আরও পড়ুন: ‘নিজের’ সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখাটাই আসল, তাই নিজেকে যত্নে রাখতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি:

কলকাতায় ফিরে এসেই স্বামীজী নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়ের বাগান বাড়িতে সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী এবং তাঁর অনুগামীদের নিয়ে এক সভা করেন এবং বলেন, “দেখো, আমরা সবাই ভগবানের পবিত্র নাম নিয়ে এখানে একত্রিত হয়েছি। মরণভয়কে তুচ্ছ করেই প্লেগ রোগীদের সেবা করতে হবে আমাদের। এদের সেবা-শুশ্রুষা করতে করতে প্রয়োজনে আমাদের মঠের জমিও যদি বিক্রি করতে হয়, আমাদের জীবন যদি বিসর্জনও দিতে হয়, তবু আমরা প্রস্তুত।”

সেই সময় ত্রাণের কাজ শুরু করে দিয়েছিল সদ্য প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশনও।

পাশাপাশি  এসেছিলেন মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল তথা ভগিনী নিবেদিতাও।

মহামারী
স্বামী বিবেকানন্দ, সিস্টার নিবেদিতা ও তাঁর অনুগামীগণ

এবার ফিরা যাক 2020 তে। করোনা ভাইরাসের কথা ভাবলেই, স্বাভাবিকভাবেই সে সময়কার কলকাতা সহ বাংলার ওই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মনে পড়ে যায়।

আরও পড়ুন: ভারত-চিন পরিস্তিতিতে বন্ধু মোদির মুড ভালো নেই, জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!

আজ যখন সমগ্র বিশ্ব ভীত, সন্ত্রস্ত, কলকাতায় দিনের পর দিন বেড়েই চলছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা, তখন ইতিহাসের প্রতিলিপি আমাদের জানিয়ে দেয় যে, বীভৎসতার জল্লাদ কতটা অসূররূপী।

বর্তমান সরকার সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিচ্ছে। সরকারি পদক্ষেপগুলি দেখে কেন জানি না বারবার খালি মনে হচ্ছে, প্রত্যেক মহামারী’তেই যদি স্বামী বিবেকানন্দের  মতো এমন কেউ এগিয়ে আসতো!

এখন আমাদের সাবধান ও সচেতন ছাড়া এবং দূর থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

আরও পড়ুন: অতি আনন্দে আর দুঃখ পেলে মানুষের চোখে জল আসে কেন?

প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে। ধন্যবাদ।।

বাংলায় ভাইরাল ভাইরাল খবর, লেটেস্ট নিউজ, বিনোদনমূলক পোস্ট ও আন্তর্জাতিক খবর পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ-👇👇