ভাগাড়ের পচা মাংসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ভেজাল মদের ব্যবসাও!

বিপদ দেশি মদেও। মদ জাল ছিলই। মরা মুরগি আর ভাগাড়ের মাংসের সাথে পাল্লা দিয়ে এবার বিদেশ থেকে নিয়ে আসা দামী মদেও ভেজাল চালানো হচ্ছিল। বিদেশি স্কচের সাথে দেশি কম দামের হুইস্কি মিশিয়ে ধনী পরিবারের লোকেদের হাতে পেগ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছিল তুলে। অনেকে খুশি মনে খেয়েও নিচ্ছিলেন সেই ‘স্কচ’। কিন্তু রাজ্যের আবগারি দপ্তরের চোখ এড়াতে পারেনি তা।

আইপিএল ম্যাচের শেষে শহরের এক বিলাসবহুল ও নামী হোটেলের পানশালায় পার্টি চলছিল। সেখানে শহরের অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। অনেক অতিথির হাতে গ্লাস ছিল বিদেশি ‘স্কচ’-এর। আবগারি দপ্তরের অভিযোগ, বুঝতেও পারেননি অতিথিরা সেগুলি আসল না কি মেশানো রয়েছে তাতে সস্তার ‘দিশি হুইস্কি’।

রবিবার রাতেই তল্লাশি চালানো হয় ওই হোটেলের পানশালায় ও সেখান থেকে উদ্ধার হয় অনেক বিদেশি মদ। অভিযোগ, ওই হোটেলের বাকি পানশালাগুলিতে বিদেশী মদ বিক্রি হত একইভাবে।

জানা গিয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে সোমবার ওই হোটেলের ৪টি পানশালাই দেওয়া হয়েছে বন্ধ করে। তারই সাথে শুরু হয়েছে কড়া নজরদারি কলকাতা এবং তার লাগোয়া বিলাসবহুল হোটেলগুলির পানশালার উপর। কলকাতার পাঁচতারা হোটেলের দিকেও নজর রয়েছে আবগারির গোয়েন্দাদের।


আবগারি দপ্তরের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, বিশেষ সূত্রে খোঁজ পেয়ে অনেক দিন ধরেই শহরের বেশ কয়েকটি হোটেলের উপর রাখা হচ্ছিল নজর। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছিলেন, বেআইনিভাবে ওই হোটেলটি বিদেশ থেকে আনা প্রচুর সংখ্যার মদের বোতল ঢুকেছে। অনেক দেশেই শুল্কছাড়া বিক্রি হয় মদের বোতল, কম দাম যেগুলির।

এমন কিছু এজেন্ট আছে, যারা অন্য দেশ থেকে বিনাশুল্কে বিদেশি মদ কিনে আনে অথবা কিনে নেয় অন্য বিমানযাত্রীর কাছে। সেই মদই বেশি দামে বিক্রি করে তারা শহরের কিছু নামী ও বিলাসবহুল হোটেলে যেখানে বিদেশি স্কচ পান করার জন্য যান অতিথিরা।

অনেকেই পরিচিত নন বিদেশী স্কচের স্বাদের সঙ্গে। আবার অনেক অতিথিই আছেন যারা দুই পেগ মদ খাওয়ার পরই আর বুঝতে পারেননা স্বাদ। কয়েকটি পানশালা নেয় সেই সুযোগ। তারা দামি মদ বোতল থেকে বের করে সস্তার মদ মিশিয়ে দেয় তাতে। ওই ‘ভেজাল’ মদ অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে স্বাস্থ্যের পক্ষে। ওই এজেন্টদের খোঁজ চালাচ্ছেন আবগারি গোয়েন্দারা, যারা বিদেশী মদ পাচার করার সাথে যুক্ত।

সূত্র: সংবাদপ্রতিদিন

Rudrani: