একশো বছর পর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য মাটিতে লুটিয়ে ক্ষমা চাইলেন ব্রিটিশ!

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস ঘটনা হলো জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা নিয়েও ইতিহাসবিদদের মধ্যে কম মত পার্থক্য নেই। আর এই ঘটনার একশো বছর পরে তা মেনে নিলেন ইংল্যান্ডে খ্রিস্টান ধর্মের মানুষের তীর্থক্ষেত্র হিসাবে প্রসিদ্ধ ক্যান্টারবারি’র আর্চবিশপ। একশো বছর আগের এই নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি ক্ষমাও চাইলেন। এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অনুশোচনাও প্রকাশ করেন।

কিছুদিন আগেই দু’দিনের জন্য ভারতে সফরে এসেছিলেন ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি সস্ত্রীক। ভারতে এসেই তিনি অমৃতসরে পৌঁছে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উদ্যানে যান। সেখানেই তিনি মাটি’তে লুটিয়ে পড়ে এই নৃংশসতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। তিনি জানিয়েছেন, “ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি নই আমি। নই রাজনীতিকও। তবে, ধর্মগুরু ও ধর্মীয় নেতা হিসাবে যে মর্মান্তিক ইতিহাসের সাক্ষী হলাম, তাতে ভীষণ শোকস্তব্ধ আমি। তৎকালীন ব্রিটিশ যে জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছিল, তার জন্য সত্যিই লজ্জিত।”

লেটেস্ট এবং ভাইরাল খবর পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ –ক্লিক করুনBengali Viral News

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উদ্যানের Visitor Book এ আর্চবিশপ জাস্টিন লেখেন, “একশো বছর আগে এই উদ্যান যে নৃশংসতার সাক্ষী হয়েছিল, তাতে আজও তাঁর এখানে এসে লজ্জায় মাথা নত। মৃত’দের পরিবারগণ এবং আত্মীয়ে’রা সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠবেন আশা করি। সঙ্গে প্রার্থনা করি, আমরা যেন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিই। হিংসা’র শিকড় উপড়ে ফেলে চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে পারি সমন্বয়ের বার্তা।”

২০০ বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে অপশাসনের জন্য ব্রিটিশ সরকার’কে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ভারতের তরফ থেকে একাধিক বার দাবি তোলা হয়েছে। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে তিনিও কি ব্রিটিশ সরকার’কে ক্ষমা চাইতে বলবেন?

উত্তরে আর্চবিশপ জাস্টিন জানিয়েছেন, “আমার নিজের অবস্থান আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি। এবং তা ইংল্যান্ডেও পৌঁছে যাবে।”

তবে, এই প্রথম নয় কিন্তু! এ বছরের এপ্রিল মাসে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের শতবর্ষেও দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি।

তখন তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “ব্রিটেনের মানুষ এই লজ্জার দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে না”।

প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন আপনার বন্ধুদের সাথে। ধন্যবাদ।।

বিজ্ঞাপন
Jayanta Das:
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন