ধিক্কারঃ কলকাতার এই বিখ্যাত হাসপাতালে এক সঙ্গে ১৬টি দেহ! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল! নড়েচড়ে বসলো কর্তৃপক্ষ:

দাঁতে দাঁত চাপা ওদের সামনের পা’গুলো কুঁকড়ে বুকে এসে ঠেকেছে। এদের মধ্যে কারও আবার মাথাও থেতলে দেওয়া হয়েছে। মুখে-চোখে রক্তের জমাট! এ রকম একের পর এক কুকুর ছানার মৃতদেহ কালো প্লাস্টিক থেকে বের করে পর পর লাইন করে মাটি’তে শুইয়ে রাখছেন এক মহিলা। সঙ্গে রাগে চিৎকারও করছেন তিনি, ‘দেখুন, কি ভাবে মেরেছে… দেখুন!”

চিত্র: সংগ্রহীত
আরও পড়ুন: মেয়েকে নিয়ে দুপুর রোদে বিক্রি করতো পেন,কেউ একজন ছবি তোলে আর বদলে যায় তার জীবন। পুরোটা পড়ুন চমকে যাবেন….

পাশ দিয়ে রুগী নিয়ে যাওয়ার পথে এই দৃশ্যটা দেখে এক ব্যক্তি থমকে দাঁড়ালেন। তাঁরও মুখ দিয়ে অস্পষ্টভাবে উচ্চারিত হলো, “ইশ…! এ রকমও কেউ করতে পারে নাকি?”

চিত্র: সংগ্রহীত

খোদ কলকাতার শিয়ালদহের নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভিতর থেকে রবিবার বিকালে এই ভাবেই প্লাস্টিক বন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হলো ১৬ টি কুকুর ছানার মৃত দেহ! এর মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি জীবিতও ছিল। কুকুরটির চোখ খুবলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ওই মৃত কুকুরছানাদের সঙ্গেই প্লাস্টিকে ভরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এই হাসপাতালের আস্তাকুঁড়ে।

চিত্র: সংগ্রহীত

গত রবিবার পুতুল রায় নামে ভদ্র মহিলার চোখে এই বিষয়টি পড়তেই সেখানে শোরগোল পড়ে যায়। খবর যায় পশুপ্রেমীদের কাছেও। তাঁদের মধ্যে একজন এন্টালি’র বাসিন্দা অনিতা দাস বসাক সেখানে পৌঁছে প্লাস্টিক ছিঁড়ে একের পর এক কুকুর ছানার দেহ বের করে হাসপাতাল চত্বরে সারি দিয়ে শুইয়ে রাখতে শুরু করেন। পরে জীবিত কুকুরটিকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও শুরু করেন তিনি। সেটির অবস্থাএখন  আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন: ভারতের এই ৫ জন পুরুষ তারকার অসংখ্য মহিলা ফ্যান রয়েছে,নম্বর ১ সবার প্রিয়:
চিত্র: সংগ্রহীত


উদ্ধারকারীদের অভিযোগ, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রী-রোগ বিভাগের চিকিৎসার বর্জ্য ফেলার প্লাস্টিকের মধ্যে থেকে এ দিন কুকুর ছানাগুলির দেহ পাওয়া গেছে। কুকুর ছানাগুলি নেহাতই শিশু, বয়স খুব বেশি মাস দেড়েক হবে। সন্দেহ, তাদেরকে আগে বিষ খাওয়ানো হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়।

চিত্র: সংগ্রহীত
আরও পড়ুন: নতুন বছরের শুরুতেই খারাপ খবর, অভিষেক, ঐশ্বর্য ছেড়ে চলে গেলেন। কিন্তু কেন? কারন জানুন…

তবে, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্মীদের যোগ রয়েছে কি-না, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, চিকিৎসার বর্জ্য ফেলার প্লাস্টিকের মধ্যে এই কুকুর ছানার মৃত দেহগুলি পাওয়া যায়। আবার এদের উদ্ধার করা হয় হাসপাতালের ভিতর থেকেই।

চিত্র: সংগ্রহীত

পশুপ্রেমী অনিতা দাস বসাকের কথায়, “হাসপাতাল চত্বরেরই কুকুরছানা এগুলো। কারণ, হাসপাতালেরই প্লাস্টিকে ভরা ছিল এদের দেহগুলো। এতোগুলো কুকুর ছানা কি বাইরে থেকে মেরে এনে হাসপাতালে ফেলে যাওয়া সম্ভব?” হাসপাতাল সুপার সৌরভ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “কি ভাবে এ রকম ঘটনা ঘটল তা বুঝতে পারছি না। পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে অনেক কুকুরই ঘুরে বেড়ায়। এগুলো তাদের কারও বাচ্চা কি-না, তা জানা যায়নি।”

আরও পড়ুন: কীভাবে যৌনশক্তি বাড়াবেন? এখনই জেনে নিন যৌনশক্তি বাড়ানোর ঘরোয়া পদ্ধতিগুলিঃ

তাহলে, হাসপাতালের প্লাস্টিকে এই কুকুর ছানাগুলোর দেহ ভরা ছিল কেন? জবাবে সৌরভবাবু জানান, “সবটাই খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ওই বিভাগে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে কোনো অভিযোগও ছিল না।”
তবে পশুপ্রেমীদের দাবি, হাসপাতাল চত্বরের সিসি ক্যামেরা দেখে কে বা কারা এই প্লাস্টিকগুলো এখানে ফেলে গিয়েছিল, তা খুঁজে বের করুক পুলিশ।

আরও পড়ুন: ‘নিজের’ সঙ্গে সম্পর্ক ভাল রাখাটাই আসল, তাই নিজেকে যত্নে রাখতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি:

পরে পুলিশের নির্দেশে হাসপাতাল চত্বর থেকে মৃত কুকুরছানাগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা পুরসভার গাড়িতে করে।  ময়নাতদন্তের আগেই পুরসভার গাড়িতে দেহ তুলে দিতে না চেয়েও বিক্ষোভ শুরু করেন পশুপ্রেমীরা। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে কুকুরছানাগুলোর দেহ এন্টালি থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগও দায়ের করা হয়।

চিত্র: সংগ্রহীত

পুতুল রায় নামে ওই মহিলা জানিয়েছেন যে, রবিবার দুপুরে হাসপাতালের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পথে তিনি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের ভিতর থেকে গোঙানির শব্দ পান। কাছে গিয়ে দেখেন যে, একটি কুকুর রক্তাক্ত অবস্থায় ধুঁকছে সেখানে। তাঁর থেকেই খবর পেয়ে অনিতা দাস বসাক এসে প্লাস্টিক ছিঁড়লে পাওয়া যায়, ভাত, কলার খোসা, বিস্কুটের প্যাকেটের সঙ্গেই ভরা কুকুরছানাগুলোর দেহ। আহত কুকুরটিকে নিজের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন পশুপ্রেমী অনিতা দাস বসাক। সেখানেই চিকিৎসা চলেছে আহত কুকুরটির।

আরও পড়ুন: শাশুড়ির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেত্রি শুভশ্রী গাঙ্গুলির। ছাড়লেন শ্বশুরবাড়ি ? জানুন বিস্তারিত….
চিত্র: সংগ্রহীত

ইতিমধ্যেই ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় কুকুরছানা পিটিয়ে মারার কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছেন। অনেকেরই অভিযোগ, এনআরএসের নার্সিং হস্টেলেরই একাংশেই এটা করেছে। যদিও এই সম্পর্কে রাত পর্যন্ত এনআরএসের নার্সিং হস্টেলের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয় নি।

হোক প্রতিবাদ… প্রতিবেদনটি শেয়ার করে ঝড় তুলুন…
সূত্র


Jayanta Das: