মুম্বাইয়ে জলবন্দি আস্ত ট্রেন, দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে উদ্ধার ১০৫০ জন যাত্রী!

বিজ্ঞাপন

কিছুই দেখা যাচ্ছে না! চারিদিকে শুধু জল আর জল… রেললাইনও দেখা যাচ্ছে না। প্রচন্ড বৃষ্টিতে সব চলে গিয়েছে জলের তলায়!

মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ওয়াঙ্গানি’র কাছে এই কোমর সমান জলে গত শুক্রবার রাতে আটকে পড়ে মুম্বই-কোলাপুরগামী মহালক্ষ্মী এক্সপ্রেস। যাত্রীদের সাথী তখন শুধুই আতঙ্ক আর দুর্ভোগ।
আরও পড়ুন: পাড়ারই এক ছোকরা কুকুরের সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক! অবশেষে পোষ্যকে তাড়িয়ে দিল মালিক

দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা ওই অবস্থায় আটকে থাকার পরে শনিবারে জলবন্দি ওই ট্রেন থেকে উদ্ধার সম্পন্ন হয় ১০৫০ জন যাত্রীর। তাঁদের মধ্যে আবার ন’জন সন্তানসম্ভবা রয়েছেন। এ রকম অবস্থায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), ভারতীয় সেনা, ভারতীয় নৌ-সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা, রেল এবং পুলিশের সাহায্যেই এই উদ্ধারকাজ সফল হওয়ায় তাদেরও প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস।

আরও পড়ুন: IAS পরীক্ষায় মেয়েটিকে প্রশ্ন করা হল কি এমন জিনিস যা ছেলে মেয়ে দুজনেই রাত্রে এটি করতে চায় ? মেয়েটি যা উত্তর দিল জানলে চমকে যাবেন!!

কয়েক দিনের প্রচন্ড বৃষ্টি’তে বেড়েই চলেছে উলহাস নদী’র জলস্তর। আর সেই জলই উঠে এসেছে এই রেললাইনে। ফলে, শুক্রবার রাতেই বদলাপুর ও ওয়াঙ্গানির মাঝখানের এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে মুম্বই-কোলাপুরগামী মহালক্ষ্মী এক্সপ্রেস। আর, জায়গাটিও লোকালয় থেকে অনেকটা খানিকটা দূরেই ছিল। রাতের অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্চিলো না। ফলে, ট্রেনের যাত্রীরাও ভয়ঙ্কর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। অনেকেই নিজেদের এই দুর্ভোগের ভিডিও তাদের স্মার্টফোনের তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তাদের সাহায্যের আবেদনও জানান।

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর শাস্তি: সেনাপ্রধান’কে রাক্ষুসে মাছ পিরানহা ভর্তি জলাশয়ে ফেলে দিল কিম জং!

যাত্রী’রা জানিয়েছেন, পানীয় জল ও খাবার ছাড়া তাদের ট্রেনের মধ্যে বসে থাকতে হয়েছে। তাঁরা ট্রেন থেকে নামতে পারছিলেন না। কারণ, ট্রেনের বাইরে প্রায় কোমর সমান জলে থৈ থৈ করছে। এমনাবস্থায় টুইট করে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামতে বারণ করে দেয় ভারতীয় রেল দপ্তর। তারা যাত্রীদের বলে, ট্রেন থেকে নীচে নামবেন না। ট্রেন’ই সব থেকে নিরাপদ জায়গা। ট্রেনের মধ্যে থেকেই সাহায্যের জন্য একটু অপেক্ষা করুন।

আরও পড়ুন: ভারতীয় আর্মির এই দশটি তথ্য প্রত্যেক ভারতীয়ের জানা উচিত

ইতিমধ্যেই যাত্রীদের আটকে থাকার খবর পেয়ে প্রথমেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় লোকাল পুলিশ এবং সঙ্গে রেলপুলিশও। আটকে পড়া যাত্রীদের তাঁরা তৎক্ষণাৎ বিস্কুট ও জল দেয়। এর পরেই উদ্ধার কাজে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় বায়ুসেনার দু’টি বিমানও। দিনের আলো ফুটতেই দেখা যায়, চারিদিকে শুধুই জল আর জল। আর তারই মধ্যে ট্রেনটি সুঁই সুতোর মতো বেঁকে আছে।

হাত লাগায় ভারতীয় নৌসেনা, সেনা, রেল, দমকল এবং স্থানীয় প্রশাসনও। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আটটি নৌকোর সাহায্যে ট্রেনের কাছে গিয়ে নামিয়ে আনা হয় যাত্রীদের। দীর্ঘ সতেরো ঘণ্টা আটকে থাকার পরে শনিবার বিকেল ৩টে নাগাদ উদ্ধার সম্ভব হয় ট্রেনের সকল যাত্রীকে। সেন্ট্রাল রেলওয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ১০৫০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে তাদের সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: গ্লাসভর্তি নয়, এবার অর্ধেকই পাবেন! জলের অপচয় আটকাতে নতুন আদেশ যোগী সরকারের।

এ ছাড়াও সেখানে ৩৭ জন চিকিৎসক এবং স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞও পাঠানো হয়েছে। এবং অ্যাম্বুল্যান্সও। যাত্রীদের জন্য ১৯ কামরার একটি বিশেষ ট্রেনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। কল্যাণ থেকে কোলাপুর যাবে ট্রেনটি। উদ্ধার হওয়া ন’জন সন্তানসম্ভবাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চেক-আপের জন্য। উদ্ধারকাজের সাথেই যুক্ত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, ওই ন’জন সন্তানসম্ভবা এবং এক মাসের একটি মেয়ে ভাল আছে।

আরও পড়ুন: এখন আপনি ট্রেনের টিকিটে স্টেশন ও যাত্রীর নামও বদলানো পারবেন! জেনে নিন কিভাবে:

কেন্দ্রী’য় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, গোটা বিষয়’টির উপরে নজর রেখে গিয়েছে কেন্দ্র সরকার। টুইট করে উদ্ধারকারী দলকেও প্রশংসা করেছেন তিনি। গোটা বিষয়’টি নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। এবং তিনি সমস্ত রকম সাহায্যেরও আশ্বাস দিয়েছেন।

গত কয়েক দিনের প্রচন্ড বৃষ্টিতে বেহাল দশা গোটা মুম্বই সহ শহরতলির বাইরেও বেশ কিছু জায়গা। এখনও বেশ কিছু জায়গা জলের তলায়। বিপর্যস্ত সড়ক ব্যবস্থা এবং বিমান পরিষেবাও। ওই দিন সকালে ১১টা বিমান বাতিল করা হয়। বদল করা হয় বেশ কয়েকটি বিমানের পথও। কমলা সতর্কতা জারি আবহাওয়া দফতর থেকে। তাদের পূর্বাভাস, আরও বৃষ্টি হবে মুম্বই এবং থানে এবং রায়গড় জেলায়।

আরও পড়ুন: ভারতীয় আর্মির এই দশটি তথ্য প্রত্যেক ভারতীয়ের জানা উচিত

বিজ্ঞাপন
Jayanta Das:
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন